মেহেরপুর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগে অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মেহেরপুরের স্থান অপরিসীম। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই জেলার মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল। এই কারণে মুজিবনগর বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী হিসেবে পরিচিত।

মেহেরপুর জেলার নামকরণ নিয়ে দুটি মত প্রচলিত। প্রথম মতে, ষোড়শ শতাব্দীর সাধক মেহের আলী শাহের নামানুসারে এই জেলার নাম হয়েছে। দ্বিতীয় মতে, কবি মিহির আলী ও তাঁর পুত্রবধূ 'খনা'র নামে মিহিরপুর থেকে কালক্রমে মেহেরপুর নাম হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে মেহেরপুর স্বতন্ত্র জেলার মর্যাদা পায়।

জেলার মোট আয়তন ৭১৬.০৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৭,০৫,৩৫৬ জন। জেলায় ৩টি উপজেলা (মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগর), ২টি পৌরসভা, ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ, ২৭৪টি গ্রাম ও ১৮০টি মৌজা রয়েছে।

🗺️ ভৌগোলিক অবস্থান

মেহেরপুর জেলা ২৩°৪৪' থেকে ২৩°৫৯' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৩৪' থেকে ৮৮°৫৩' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত। প্রায় ৬০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।

জেলার প্রধান নদীসমূহ: ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কাজলা ও চৌতিয়া। এই নদীগুলোর পলিমাটি জেলার জমিকে অত্যন্ত উর্বর করেছে। ধারলার বিল, চাঁদ বিল, কোলার বিল, পাটাপুকুর বিল ও গোপালপুর বিল জেলার প্রধান জলাশয়।

গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.১°সে এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২°সে।

💼 অর্থনীতি

কৃষিই মেহেরপুরের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি। প্রায় ৬৮.৯৫% মানুষ কৃষি থেকে জীবিকা অর্জন করেন। মেহেরপুরকে বাংলাদেশের 'আমের রাজধানী' বলা হয়। এখানকার ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি ও গোপালভোগ আম সারা দেশে ও বিদেশে রপ্তানি হয়।

ধান, পাট, গম, আম, পান, আলু ও সবজি এখানকার প্রধান ফসল। মেহেরপুরের পান বিশেষভাবে সুস্বাদু ও বিখ্যাত। বাণিজ্য খাতে ১৩.৮৩%, পরিবহনে ২.২১% ও শিল্পে ০.৮৭% মানুষ নিয়োজিত। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সও জেলার অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

📌 এক নজরে মেহেরপুর

জনসংখ্যা৭,০৫,৩৫৬
আয়তন৭১৬ বর্গ কিমি
বিভাগখুলনা
উপজেলা৩টি
ইউনিয়ন১৮টি
সাক্ষরতা৬৮.১৪%
প্রতিষ্ঠা১৯৮৪
WhatsApp শেয়ার